সামরিক ইতিহাসের পাতায় এক নতুন অধ্যায় যোগ করল আমেরিকা। ইরানের আকাশসীমায় মার্কিন যুদ্ধবিমান F-15E স্ট্রাইক ঈগল ভূপাতিত হওয়ার পর, শত্রুভূমির গভীর থেকে নিজেদের দুই অফিসারকে অক্ষত অবস্থায় উদ্ধার করে আনল মার্কিন কমান্ডোরা। এই ঘটনাটি ২০১৯ সালে ভারতের উইং কমান্ডার অভিনন্দনের সেই ঐতিহাসিক প্রত্যাবর্তনের কথা মনে করিয়ে দিচ্ছে। [
১. শ্বাসরুদ্ধকর উদ্ধার অভিযান
বিমানে যান্ত্রিক ত্রুটি নয়, বরং ইরানের গোলার আঘাতে সেটি ধ্বংস হয়েছিল। বিমানে থাকা পাইলট এবং ওয়েপন সিস্টেম অফিসার ইজেক্ট করে ইরানের পাহাড়ি এলাকায় অবতরণ করেন।
ইরানের পুরস্কার ঘোষণা: ইরান সরকার ঘোষণা করেছিল, যে ব্যক্তি এই দুই আমেরিকানকে জীবিত ধরতে পারবে, তাকে ৬০ হাজার মার্কিন ডলার পুরস্কার দেওয়া হবে। [
]01:26 ট্রাম্পের ঘোষণা: প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প নিশ্চিত করেছেন যে, অত্যন্ত গোপনীয়তার সাথে এই রেসকিউ অপারেশন চালানো হয়েছে। পাইলটকে আগেই উদ্ধার করা হয়েছিল, কিন্তু সহকর্মীর অবস্থান সুরক্ষিত রাখতে বিষয়টি গোপন রাখা হয়। শেষ পর্যন্ত দুজনেই এখন নিরাপদ। [
]01:46
২. ভারত বনাম আমেরিকা: কার অপারেশন বেশি কঠিন?
আমেরিকার এই সাফল্য নিঃসন্দেহে বড়, কিন্তু সামরিক বিশ্লেষকরা ভারতের উইং কমান্ডার অভিনন্দন-এর ঘটনার সাথে এর একটি মৌলিক পার্থক্য তুলে ধরেছেন:
ধরা পড়া বনাম লুকানো: আমেরিকান অফিসাররা ইরানের হাতে ধরা পড়ার আগেই উদ্ধার হয়েছেন। কিন্তু অভিনন্দন পাকিস্তানের সেনাদের হাতে বন্দি ছিলেন। [
]02:11 কূটনৈতিক বিজয়: অভিনন্দনকে ছাড়াতে ভারতকে কোনো কমান্ডো অপারেশন করতে হয়নি, বরং ভারতের সামরিক শক্তির ভয়ে পাকিস্তান নিজেই তাঁকে সীমান্তে ছেড়ে দিয়ে গিয়েছিল। [
]02:46
৩. সেই ঐতিহাসিক রাত ৯টা: কাঁপছিল পাকিস্তানের পা
ভিডিওটিতে পাকিস্তানের তৎকালীন সাংসদ আয়াজ সাদিকের সেই বিখ্যাত বয়ান পুনরায় মনে করিয়ে দেওয়া হয়েছে। সাদিক জানিয়েছিলেন, অভিনন্দনের সময় পাকিস্তানের সেনাপ্রধানের পা কাঁপছিল এবং কপালে ঘাম ছিল। তৎকালীন বিদেশমন্ত্রী শাহ মাহমুদ কুরেশি বলেছিলেন, "দোহাই আল্লাহর, ওনাকে (অভিনন্দনকে) যেতে দিন, নয়তো আজ রাত ৯টায় ভারত আমাদের ওপর বড় হামলা করবে।" [
৪. ইরানের বর্তমান পরিস্থিতি
আমেরিকা এই উদ্ধারকাজটি করতে পেরেছে কারণ বর্তমানে ইরানের এয়ার ডিফেন্স সিস্টেম বা আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা অনেকটাই দুর্বল হয়ে পড়েছে। এই সুযোগ কাজে লাগিয়েই মার্কিন রেসকিউ টিম শত্রুভূমির ভেতরে ঢুকে নিজেদের জওয়ানদের ছিনিয়ে আনতে সক্ষম হয়েছে। [
উপসংহার: আমেরিকার এই অপারেশন সামরিক সক্ষমতার প্রমাণ দিলেও, ভারতের সেই কূটনৈতিক ও সামরিক দাপট আজও বিশ্বজুড়ে চর্চিত। শত্রু দেশ যখন নিজেই বন্দি সেনাকে সসম্মানে ফিরিয়ে দেয়, সেটাই হলো আসল বিজয়।
আপনার কী মনে হয়? আমেরিকার এই রেসকিউ অপারেশন কি সত্যিই ভারতের অভিনন্দন মিশনের চেয়েও বড়? কমেন্টে আপনার মতামত জানান!
ভিডিও সূত্র:

0 মন্তব্যসমূহ