ভূ-রাজনীতির নতুন সমীকরণ: রাশিয়ার ক্ষমতাধর ব্যক্তির ভারত সফর এবং ডোনাল্ড ট্রাম্পের হুমকি

 বিশ্ব রাজনীতির মঞ্চে এখন চরম উত্তেজনা। একদিকে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের ইরান নিয়ে কড়া হুঁশিয়ারি, অন্যদিকে রাশিয়ার অত্যন্ত প্রভাবশালী এক ব্যক্তিত্বের হঠাৎ ভারত সফর—সব মিলিয়ে দক্ষিণ এশিয়া থেকে মধ্যপ্রাচ্য পর্যন্ত এক বিশাল পরিবর্তনের আভাস পাওয়া যাচ্ছে।


ডোনাল্ড ট্রাম্পের সেই ‘পাথুরে যুগ’ (Stone Age) হুমকি

সম্প্রতি মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ইরানকে নিয়ে এমন এক মন্তব্য করেছেন যা বিশ্বজুড়ে আলোড়ন সৃষ্টি করেছে। ট্রাম্প হুমকি দিয়েছেন যে, আগামী কয়েক সপ্তাহের মধ্যে তিনি ইরানের ওপর এমন শক্তিশালী হামলা চালাবেন যা দেশটিকে ‘পাথুরে যুগে’ (Stone Age) ফিরিয়ে নিয়ে যাবে। এর মানে হলো, ইরানের বিদ্যুৎ কেন্দ্র, জল শোধনাগার এবং সমস্ত জ্বালানি অবকাঠামো ধ্বংস করে দেওয়া হবে । এর ফলে ইরানের প্রায় ৯ কোটি মানুষ আধুনিক সুযোগ-সুবিধা বঞ্চিত হয়ে পড়বে।

রাশিয়ার ‘পাওয়ারফুল ম্যান’ যখন ভারতে

ঠিক যখন ট্রাম্প ইরানকে ধ্বংস করার হুমকি দিচ্ছেন, তখনই রাশিয়ার ফার্স্ট ডেপুটি প্রাইম মিনিস্টার ডেনিস মান্টুরোভ (Denis Manturov) দুই দিনের সফরে ভারতে পা রেখেছেন । মান্টুরোভ পুতিনের অতি ঘনিষ্ঠ এবং রাশিয়ার অন্যতম প্রধান নীতিনির্ধারক।

কেন এই অসময়ে তার ভারত সফর? উত্তরটা লুকিয়ে আছে জ্বালানি এবং কূটনীতির জটিল অংকে।

ভারত কেন রাশিয়ার ‘সংকট মোচক’?

রাশিয়া এখন বিশ্বের অন্যতম বড় জ্বালানি সরবরাহকারী। কিন্তু তারা এক অদ্ভুত সমস্যায় পড়েছে। তারা অপরিশোধিত তেল (Crude Oil) প্রচুর পরিমাণে উৎপাদন করতে পারলেও, তা থেকে পেট্রোল বা ডিজেল তৈরি করে সারা বিশ্বে সরবরাহ করার ক্ষেত্রে চ্যালেঞ্জের মুখে পড়ছে ।

এখানেই ভারতের ভূমিকা অনন্য:

  • তেল পরিশোধন ক্ষমতা: রাশিয়ার অপরিশোধিত তেল পরিশোধন করার প্রযুক্তি এবং সক্ষমতা ভারতের অত্যন্ত শক্তিশালী। বিশ্বের অনেক দেশের কাছে এই প্রযুক্তি নেই ।

  • বিশ্ব বাজারে সরবরাহ: রাশিয়া চায় ভারত তাদের থেকে অপরিশোধিত তেল কিনুক এবং সেটি রিফাইন করে সারা বিশ্বের বাজারে পৌঁছে দিক []।

  • নিজেদের বাজার সুরক্ষিত রাখা: রাশিয়া আগামী ৪ মাসের জন্য পেট্রোল ও ডিজেল রপ্তানি বন্ধ রেখেছে কারণ তাদের নিজেদের জনগণের জন্য এর প্রয়োজন রয়েছে। কিন্তু তারা অপরিশোধিত তেল বিক্রি চালু রাখবে, যা ভারত প্রসেস করতে পারবে।

আগামীর বার্তা

ডোনাল্ড ট্রাম্পের এই যুদ্ধংদেহী মনোভাবের কারণে বিশ্ববাজারে তেলের দাম আকাশচুম্বী হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে। এমন পরিস্থিতিতে ভারত ও রাশিয়ার এই অংশীদারিত্ব কেবল দুই দেশের জন্যই নয়, বরং বিশ্বের জ্বালানি সংকট মেটাতেও বড় ভূমিকা রাখতে পারে ।

রাশিয়া বুঝতে পারছে যে আগামী সময়ে ভারতের প্রয়োজনীয়তা কতটা অপরিসীম। অন্যদিকে, ভারতের সাধারণ মানুষের ঘরে সুলভে গ্যাস এবং জ্বালানি পৌঁছে দিতে রাশিয়ার সঙ্গে এই সুসম্পর্ক বজায় রাখা অত্যন্ত জরুরি []।

বিশ্ব রাজনীতির এই দাবার চালে শেষ পর্যন্ত কে জয়ী হয়, সেটাই এখন দেখার বিষয়।

একটি মন্তব্য পোস্ট করুন

0 মন্তব্যসমূহ