২০২৬-এর পশ্চিমবঙ্গ বিধানসভা নির্বাচনের ঢাকে কাঠি পড়ে গেছে। আর মাত্র এক সপ্তাহ বাকি, তার আগেই উত্তর থেকে দক্ষিণ—পুরো রাজ্য এখন রাজনৈতিক হেভিওয়েটদের চারণভূমি। মঙ্গলবার অমিত শাহের উত্তরবঙ্গ সফর এবং মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের দক্ষিণবঙ্গ প্রচারকে কেন্দ্র করে রাজ্য রাজনীতির পারদ এখন তুঙ্গে।
১. অমিত শাহের আক্রমণ: "দিদি, আপনার সময় শেষ" [00:00 ]
মঙ্গলবার উত্তরবঙ্গের সভা থেকে কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ সরাসরি মুখ্যমন্ত্রীকে চ্যালেঞ্জ ছুড়ে দেন। তিনি বলেন, "দিদি আপকা টাইম আব সমাপ্ত হো গেয়া হে" (দিদি আপনার সময় এবার শেষ)। শাহের দাবি, এবার বাংলায় বিজেপি সরকার আসা সুনিশ্চিত। তিনি ভোটারদের ইভিএম-এর বোতাম এমনভাবে টিপতে বলেন যাতে তৃণমূল সরকারের কাছে কারেন্টের মতো শক লাগে। [
২. মমতার হুঙ্কার: "বাংলা জিতে এবার লক্ষ্য দিল্লি" [00:13 ]
পাল্টা দিতে দেরি করেননি তৃণমূল সুপ্রিমো মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। তিনি বলেন, "তোমরা বাংলাকে টার্গেট করেছ, আমাদের লক্ষ্য এবার দিল্লি।" তিনি চ্যালেঞ্জ করেন যে ৪ঠা মে বাংলায় রবীন্দ্রসংগীত নয়, বরং তৃণমূলের জয়ের ডিজে বাজবে। ভোটার লিস্ট থেকে নাম বাদ দেওয়া নিয়ে তিনি প্রধানমন্ত্রীকে পদত্যাগের দাবিও জানান। [
৩. রাহুল গান্ধীর প্রবেশ: দুর্নীতি ইস্যুতে তোপ [02:28 ]
দীর্ঘদিন পর বাংলায় এককভাবে লড়াইয়ে নেমেছে কংগ্রেস। উত্তর দিনাজপুরের রায়গঞ্জ ও মালদায় প্রচারে এসে রাহুল গান্ধী তৃণমূল ও বিজেপি—উভয়কেই আক্রমণ করেন। তিনি সারদা ও রোজভ্যালি কান্ড তুলে ধরে তৃণমূলকে বিঁধেছেন, আবার নরেন্দ্র মোদীর সঙ্গে আদানির সম্পর্কের কথা বলে বিজেপিকেও রেয়াত করেননি। [
৪. কর্মসংস্থান নিয়ে চাপানউতোর [04:12 ]
রাহুল গান্ধী অভিযোগ করেন যে ২০২১ সালে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় ৫ লক্ষ চাকরির প্রতিশ্রুতি দিয়েছিলেন, অথচ আজও লক্ষ লক্ষ যুবক বেকার। তৃণমূলের পক্ষ থেকে এর পাল্টা জবাবে বলা হয় যে, রাহুল গান্ধী বাংলায় ভোট কাটতে এসে আসলে বিজেপির সুবিধাই করে দিচ্ছেন। [
৫. ৪ মে-র ফলাফলই নির্ধারণ করবে ভবিষ্যৎ [01:23 ]
চতুর্থবারের জন্য তৃণমূল নাকি প্রথমবার বিজেপি—এই প্রশ্নের উত্তর মিলবে ৪ মে। অনুপ্রবেশ, এসআইআর (SIR) ইস্যু এবং দুর্নীতির অভিযোগকে হাতিয়ার করে সব দলই এখন ভোটারদের মন পাওয়ার শেষ মুহূর্তের চেষ্টায় ব্যস্ত। [
উপসংহার: পশ্চিমবঙ্গের বিধানসভা ভোট এবার এক ত্রিমুখী লড়াইয়ের আকার নিয়েছে। একদিকে তৃণমূলের দুর্গ রক্ষা, অন্যদিকে বিজেপির ক্ষমতা দখলের মরিয়া চেষ্টা এবং কংগ্রেসের অস্তিত্বের লড়াই—সব মিলিয়ে বাংলার মাটি এখন তপ্ত আগ্নেয়গিরি।
ভিডিওটি সরাসরি দেখুন:

0 মন্তব্যসমূহ