বাংলার রাজনীতির কথা বললেই যেটা সবার আগে মাথায় আসে, সেটা হলো মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের অবিরাম লড়াইয়ের গল্প। সার্থক গোস্বামীর এই ভিডিওতে সুন্দরভাবে ধরা হয়েছে কীভাবে একজন সাধারণ মেয়ে স্টুডেন্ট পলিটিক্স থেকে উঠে এসে ৩৪ বছরের বাম শাসনকে গুঁড়িয়ে দিয়েছিলেন। কিন্তু প্রশ্ন হলো, মমতার চলন-বলন আর রাজনীতির ধরন কি এখন অনেকটা কেন্দ্রের বিজেপি বা নরেন্দ্র মোদীর মতোই হয়ে উঠেছে?
১. লড়াকু নেত্রীর উত্থান এবং বাম শাসনের অবসান [০০:০৮:৩১]
মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের রাজনৈতিক জীবন শুরু হয় লড়াইয়ের মধ্য দিয়ে। ১৯৮৪ সালে মাত্র ২৯ বছর বয়সে তিনি সোমনাথ চ্যাটার্জির মতো বড় নেতাকে হারালেও, তার আগে থেকেই তিনি ছিলেন অত্যন্ত ‘থিয়েট্রিকাল’ এবং বিভিন্ন আন্দোলনে মুখর। ১৯৯০-এর দশকে হাজরাতে তার ওপর হওয়া রডের আঘাত এবং তারপরের লড়াই তাকে বাংলার ঘরে ঘরে 'দিদি' করে তুলেছিল।
২. সিঙ্গুর-নন্দীগ্রাম: টার্নিং পয়েন্ট [০০:১৯:৩৬]
বাংলার রাজনীতিতে মমতার উত্থানের পিছনে সবচেয়ে বড় ভূমিকা ছিল সিঙ্গুর এবং নন্দীগ্রামের আন্দোলন। টাটা মোটরসের কার ফ্যাক্টরির বিরুদ্ধে এবং কৃষকদের জমি রক্ষায় তার এই অবিরাম অনশন এবং প্রো-কৃষক ছবি তাকে সিপিএমের প্রবল প্রতিপক্ষ হিসেবে প্রতিষ্ঠিত করে।
৩. দিদির ‘ওয়েলফেয়ার স্কিম’ বা জনকল্যাণমূলক প্রকল্প [০০:২৭:১১]
মমতার সফলতার পিছনে তার 'Welfare Schemes' বা জনকল্যাণমূলক প্রকল্পগুলোর বড় অবদান আছে। 'কন্যাশ্রী', 'লক্ষ্মীর ভাণ্ডার' এবং ২ টাকা কেজি চালের মতো প্রকল্পগুলো গরিব এবং মহিলা ভোট-ব্যাংককে তার দিকে টেনে নিয়ে এসেছে। ঠিক যেমনভাবে কেন্দ্রে বিজেপি-ও বিভিন্ন সুবিধাভোগী স্কিমের মাধ্যমে তাদের ভোট-ব্যাংক ধরে রাখে।
৪. ক্ষমতা এবং বিতর্ক [০০:২৪:১৬]
কিন্তু ক্ষমতায় আসার পর মমতার মধ্যেও কিছু ‘অসহিষ্ণু’ ধরন দেখা গেছে বলে দাবি করা হয়। কার্টুন শেয়ার করার জন্য প্রফেসরের গ্রেপ্তার বা বিভিন্ন কেলেঙ্কারি (সারদা, নারদ) তার সরকারের ওপর কালিমালিপ্ত করেছে। এই ধরনগুলো অনেকটা সেই 'অথরিটেরিয়ান' ধরনের মতোই, যেটার জন্য তিনি আগে বামফ্রন্টকে দোষারোপ করতেন।
৫. মমতার ‘সোয়্যাগ’ এবং জাতীয় রাজনীতি [০০:৩৩:৫০]
মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের সবচেয়ে বড় গুণ হলো তার অ্যাগ্রেসিভ রাজনীতি। কেন্দ্রীয় এজেন্সির রেইডের মধ্যেও তিনি ঠিক ঢুকে পড়ে ডকুমেন্ট নিয়ে আসতে পারেন, যেটা অন্য কোনো মুখ্যমন্ত্রী হয়তো চিন্তাও করতে পারবেন না। বাংলায় এখনো তার সমান প্রতিপক্ষ কেউ নেই, ঠিক যেমনভাবে কেন্দ্রে মোদীর বিরুদ্ধে কোনো শক্তিশালী মুখ নেই।
.png)

0 মন্তব্যসমূহ