সম্প্রতি কাশ্মীরসহ ভারতের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে ইরানের জন্য যে বিপুল পরিমাণ চন্দা সংগ্রহ করা হয়েছিল, তা নিয়ে বিশ্বজুড়ে তোলপাড় শুরু হয়েছে। নগদ টাকা, সোনা, রুপা এবং পিতলের বাসনসহ এই বিশাল দান নিয়ে ভারত সরকার এক অভাবনীয় পদক্ষেপ নিয়েছে। চলুন জেনে নিই এই ঘটনার আদ্যোপান্ত।
১. বিপুল চন্দা সংগ্রহ ও বিতর্ক [00:07 ]
কাশ্মীরের শিয়া মুসলিম সম্প্রদায় এবং অন্যান্যরা ইরানের জন্য ব্যাপক হারে দান শুরু করেছিলেন। এর মধ্যে ছিল নগদ টাকা, মূল্যবান অলঙ্কার এবং প্রাচীন সব আসবাবপত্র। এমনকি ভারতে অবস্থিত ইরানি দূতাবাস এই টাকা সংগ্রহের জন্য কিউআর (QR) কোড পর্যন্ত জারি করেছিল। কিন্তু সোশ্যাল মিডিয়ায় এই বিপুল পরিমাণ অর্থ ও সম্পদের উৎস নিয়ে প্রশ্ন উঠতে শুরু করে।
২. ভারতের কড়া নিয়ম ও মাস্টার স্ট্রোক [01:05 ]
ভারত সরকার স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছে যে, ইরানি দূতাবাস এই সংগৃহীত অর্থ বা সোনা কোনোভাবেই ইরানের মাটিতে নিয়ে যেতে পারবে না। নিয়ম অনুযায়ী, এই চন্দার প্রতিটি পয়সার হিসেব দিতে হবে এবং সেই অর্থ ভারতেই খরচ করতে হবে। কূটনৈতিক প্রোটোকল অনুযায়ী, কোনো দূতাবাস এভাবে সরাসরি চন্দা দেশের বাইরে পাঠাতে পারে না।
৩. শুধুমাত্র ওষুধ কেনা যাবে [01:50 ]
রিপোর্ট অনুযায়ী, সংগৃহীত এই অর্থ দিয়ে ইরান শুধুমাত্র প্রয়োজনীয় ওষুধ কিনতে পারবে। তবে শর্ত হলো, সেই ওষুধও কিনতে হবে ভারত থেকেই। অর্থাৎ, ভারতের মানুষের দান করা টাকা শেষ পর্যন্ত ভারতের অর্থনীতিতেই ফিরে আসবে এবং তা শুধুমাত্র মানবিক কাজে (ওষুধ ক্রয়ে) ব্যবহৃত হবে।
৪. সোনা ও অলঙ্কার জমা থাকবে ভারতীয় ব্যাংকে [02:12 ]
সংগৃহীত সোনা এবং অন্যান্য মূল্যবান অলঙ্কারগুলো ইরানি দূতাবাসকে ভারতের স্থানীয় ব্যাংকেই জমা রাখতে হবে। সেগুলো বিক্রি বা বিনিময় করে যে অর্থ পাওয়া যাবে, তাও ভারতের অভ্যন্তরেই নিয়ন্ত্রিত হবে। এর ফলে কোনোভাবেই এই অর্থের অপব্যবহার বা সন্দেহজনক কাজে ব্যবহারের সুযোগ থাকছে না।
৫. কূটনৈতিক টানাপোড়েন ও ভিয়েনা কনভেনশন [03:07 ]
ভিয়েনা কনভেনশন অনুযায়ী বিদেশি দূতাবাসগুলোর ব্যাংকিং অধিকার থাকলেও, তারা মূল অ্যাকাউন্টের বাইরে অন্য কোনো উদ্দেশ্যে (যেমন চন্দা তোলা) অ্যাকাউন্ট ব্যবহার করতে পারে না। এর জন্য সংশ্লিষ্ট দেশের বিদেশ মন্ত্রকের অনুমতির প্রয়োজন হয়। ইরানের পক্ষ থেকে কাশ্মীর ইস্যুকে যেভাবে সাম্প্রদায়িক রূপ দেওয়ার চেষ্টা করা হয়েছিল, তার পরেই ভারত এই কড়া অবস্থান নিয়েছে বলে মনে করা হচ্ছে।
ভারতের এই কৌশলী পদক্ষেপে একদিকে যেমন অর্থের স্বচ্ছতা নিশ্চিত হয়েছে, অন্যদিকে দেশের সম্পদ বাইরে চলে যাওয়াও রোধ করা সম্ভব হয়েছে। এই পুরো ঘটনাটি আন্তর্জাতিক মহলে ভারতের এক বড় কূটনৈতিক জয় হিসেবে দেখা হচ্ছে।
ভিডিওটি সরাসরি দেখতে পারেন এখানে:

0 মন্তব্যসমূহ